তারিখ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী পরিচয়ধারী সোহাগের নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনীতিকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এই বর্বরতা প্রকাশ্যে এলে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে যা সবাইকে বিস্মিত করেছে, তা হলো—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির চরম কোণঠাসা অবস্থা এবং দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে ঘিরে নেমে আসা প্রচণ্ড সমালোচনার ঝড়।
৯ জুলাই সন্ধ্যা, মিটফোর্ডের সামনে পাথর ও রড দিয়ে হত্যা করা হয় সোহাগকে।
ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর রাতেই শুরু হয় শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের প্রতিবাদ।
চাঁদাবাজি ও দখল রাজনীতি নিয়ে বিএনপি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে উঠতে থাকে নতুন করে অভিযোগ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এই মুহূর্তে রয়েছেন লন্ডনে। দীর্ঘদিন ধরে দূর থেকে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করলেও, মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের পর সরাসরি তার দিকেই আঙুল তুলেছে ছাত্র সংগঠন এনসিপি ও ইসলামপন্থি দলগুলো। এমনকি একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র জামায়াতে ইসলামী-ও সরব।
বিক্ষোভ থেকে শোনা গেছে:
“আগে লীগ তাড়াইছি, এবার দল তাড়াবো”
“চাঁদা তোলে পল্টনে, ভাগ যায় লন্ডনে”
“হাসিনা গেছে যেই পথে, খালেদা যাবে সেই পথে”
এই শ্লোগানগুলো স্পষ্টতই আঘাত হেনেছে বিএনপির নেতৃত্বের হৃদপিণ্ডে।
দলীয় সহযোগী সংগঠন ৫ জনকে বহিষ্কার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানকে ঘিরে প্রচারকে “চরিত্র হননের ষড়যন্ত্র” বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর:
“দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, মিটফোর্ড হত্যা তারই অংশ।”
তারেক রহমান (লন্ডন থেকে ভিডিও বক্তৃতায়):
“আমার নামে কুৎসা ছড়িয়ে আসল অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে।”
সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন—
“আমরা কারও চরিত্র হননে নেই, শুধু বলছি—চাঁদাবাজি ও খুনের রাজনীতি জনগণকে আতঙ্কিত করছে।”
সিনিয়র আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন—
“একজনকে যদি দলের সমস্ত গৌরবের কেন্দ্র করা হয়, তবে দায়ও তাকেই নিতে হবে।”
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ (রাজনৈতিক বিশ্লেষক):
“বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে বাইরের শক্তির প্রভাবও নাকচ করা যায় না।”
মহিউদ্দিন আহমেদ (লেখক):
“বিএনপি কিছুটা ‘আইসোলেটেড’ হয়েছে। কিন্তু এটি নির্বাচনি পূর্বকৌশলের অংশ, যেখানে বিভাজনই পুঁজি।”
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগের পতনের পর ক্ষমতার শূন্যতায় বিএনপি রাজপথে অগ্রসর হয়।
কিন্তু, কোর্ট মার্শাল, দখল, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একে একে আসতে থাকে।
নিজ দলের অভ্যন্তরে অপরাধমূলক কাজের দায়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে—এটা বিএনপির দাবি।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি এখনো বিশ্বাসযোগ্য?
কেন তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় আসছেন না?
দলের ভিতরে কি বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না?
এনসিপি ও জামায়াতের সঙ্গে বাগযুদ্ধ স্পষ্ট।
সামাজিক মাধ্যমে চলছে ফটোকার্ড, ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিও ও তথ্যযুদ্ধ।
“চাঁদা-বাইক-বিকাশ-বাইতুল মাল” এখন যেন রাজনীতির নতুন অপবাদভাষা!
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড শুধু একজন যুবকের মৃত্যু নয়—এটি বিএনপির রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং এক নতুন প্রজন্মের প্রশ্ন করার সাহসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এখন প্রশ্ন হলো—বিএনপি কী পারবে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে? নাকি এই অস্থিরতা দলটির জন্য আরও বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় বয়ে আনবে?
আপনার মতামত দিন:
আপনি কি মনে করেন তারেক রহমান নিজে দেশে ফিরে দায়িত্ব নিলে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা ফিরবে? নাকি নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনই একমাত্র সমাধান?
সাংবাদিকের নাম:BDS
Bulbul Ahmed
বাংলাদেশ প্রতিদিন | রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |